লক্ষ্যে পৌছাতে সবার আগে জরুরি ডাউন ব্যাটারি রিচার্জ

দুনিয়ার ৯৯.৯৯৯৯৯% মানুষ ইনকাম করে, খায় দায় ঘুমায়, তারপর একদিন টুক করে মরে যায়। তাদের অনেকেরই প্রচুর ট্যালেন্ট ছিল। অনেক কিছু করার অপশন ছিল, সুযোগও ছিল; তারপরেও তারা তাদের লক্ষে পৌছতে পারে না।
আর বাকি যারা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে তারা ক্যামনে পারে? তাদের কি রিলাক্স করতে ইচ্ছে করে না? নাটক, সিনেমা, আড্ডা মারতে মন চায় না? তাদের ব্যাটারি কি ডাউন খায় না?
না, খায়। তবে ব্যাটারি ডাউন খাওয়া, সেটা নিয়ে আফসোস করা তাদের মেইন ফোকাস না, বরং তাদের মেইন ফোকাস হচ্ছে ডাউন খাওয়া ব্যাটারি কত দ্রুত রিচার্জ করতে পারবে। তাদের রিলাক্স হতে চাওয়া মেইন কাজ না, মেইন কাজ হচ্ছে কত দ্রুত রিলাক্স এবং রিফ্রেশ হয়ে আবার কাজে ফেরত আসতে পারবে। তাদের কাছে আটকে যাওয়া, গ্যাঞ্জামে পড়া মেইন কথা না। মেইন কথা হচ্ছে কত দ্রুত অল্টারনেটিভ রাস্তা খুঁজে বের করে ঝামেলা উতরে যেতে পারবে।
একটু চিন্তা করে দেখ, বিল গেটস, মার্ক জুকারবার্গ, এদের আর কত টাকা দরকার? ওয়ারেন বাফেটের বয়স ৮৭ হয়ে গেছে। দুই পা তো অলরেডি কবরে চলে গেছে। তার আর কত কাজ করা দরকার? এত টাকা দিয়ে কি করবে?
আসলে তারা টাকার জন্য চাকরি করে না, সম্পদের জন্য ব্যবসা করে না। অর্থ যশ খ্যাতির জন্য কাজ করে না। বরং কাজের সাথে একটা ইমোশনাল এটাচমেন্ট আছে। একটা মিশন আছে। একটা ভিশন আছে যেটা তাদের জীবনের চাইতেও বড়। সেজন্যই তাদের কাছ থেকে ক্লান্তি শব্দটা হারিয়ে গেছে। ঝড়, বৃষ্টি-বাদল, ট্রাফিক জ্যামের ভিতরেও তারা রাস্তা খুঁজে বের করে। একটা স্টেপ দুই ঘন্টায় পার হতে না পারলে সেটার পিছনে দশঘন্টা, বিশঘন্টা লেগে থাকতে পারে। এই লেভেলের ডেডিকেশন ডেভেলপ করতে পারছে বলেই তাদের ডিডিকেশনের বাই প্রোডাক্ট হিসেবে এসেছে টাকা, যশ, আর খ্যাতি পেয়েছে।
তাদের যখন ডাউন টাইম আছে তখন তারা তাদের কোচ বা মেন্টরের সাথে কথা বলে, একটু আড্ডা দিতে বা ঘুরতে যায়, বই পড়ে, সিনেমা দেখে। তবে তারা শুধু আড্ডা মারতে যায় না, তাদের মাথায় ঘুরতে থাকে কোন ফাঁকে কার কাছ থেকে কি কি জিনিসের তথ্য/সাজেশন নিয়ে নিবে। তারা শুধু ঘুরতে/বেড়াতে যায় না বরং ঘুরতে ঘুরতে দেখে সেখানকার মার্কেটে কি কি জিনিস পাওয়া যায় সেগুলা লোকাল মার্কেটে লঞ্চ করতে চাইলে কই থেকে আনতে হবে, কি রকম দাম দিতে হবে। তারা শুধু সিনেমা দেখে না, বরং সিনেমায় যেসব ডিজাইনের ড্রেস ইউজ করছে, সেগুলা থেকে ইন্সপায়ার্ড হয়ে তাদের বুটিক শপের নেক্সট ডিজাইন ঠিক করে।
তারমানে তারা রিলাক্স হওয়ার মধ্য থেকেও অপশন, ইনফরমেশন আর সাজেশন নিয়ে নিজেদেরকে রিচার্জ করে ফেলে। সেজন্যই তারা গল্প, উপন্যাস আর ফিকশন কমিয়ে বিজনেস, নলেজ, স্ট্রাটেজি টাইপের বই বেশি পড়ে।
অথচ আমরা ৫ মিনিট ব্রেক নিতে গেলে ৫ ঘন্টার জন্য হারিয়ে যাই। কোন কারনে এক দিন গ্যাপ নিলে পরের ছয় মাস আর খবর থাকে না। আমাদের ব্যাটারি একবার উইক হইলে সেটা আজীবনের জন্য রিজেক্টেড হয়ে যায়। সেটা থেকে বাঁচতে হলে নিজেই নিজেকে নিয়মিত রিচার্জ করতে হবে।
তাই কোন কিছু করতে হলে, কোন কিছু শিখতে হলে প্রথমেই তোর ভিতর থেকে প্রয়োজনটা অনুভব করতে হবে। ফিল করতে হবে। কোন ফকিরা মার্কা ইচ্ছা হলে, কিচ্ছু হবে না। জিনিসটা এমনভাবে ফিল করতে হবে যে, তোর বাঁচা-মরা নির্ভর করতেছে এইটার উপর। তাই কোনো অল্টারনেটিভ প্ল্যান রাখা যাবে না। অল্টারনেটিভ প্ল্যান থাকলেই তুই একটু আধটু ঠুসা মেরে চুপচাপ বসে থাকবি।
আর তোর সময়গুলোকে দুই ঘন্টার, তিন ঘন্টার ছোট ছোট স্লট হিসেবে ভাগ করে নিবি। সেই সব ছোট ছোট স্লটে কোন একটা কাজ করার টার্গেট থাকবে। আউটপুট আসুক বা না আসুক পুরা সময়টা সেই কাজের পিছনে দিতে হবে। সারাদিন যখন যখন সময় পাওয়ার কথা, তখন কি কি কাজ করবি সেগুলা আগের দিন রাতে লিখে রাখবি। টু-ডু লিস্টে। দিন শেষে চেক করে দেখবি তোর আজকের টার্গেট আজকে ফুলফিল হইসে কিনা। টার্গেট ফুলফিল না হওয়া পর্যন্ত রাতের খাবার খাবি না। মনে রাখবি যতটুকু সময় দেয়ার কথা ততটুকু সময় তোকে দিতেই হবে। না দিলে রাতের খাওয়া বন্ধ। প্রথম প্রথম নিজের উপরে একটু প্রেসার তৈরি করার মানে হচ্ছে নিজেই নিজের চার্জ ধরে রাখার চেষ্টা করা।
আসলে বেশিরভাগ মানুষের কাজের স্পৃহা বা মোটিভেশন, বা চার্জ কমে না। বরং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ট্রান্সফার হয়ে যায়। সেজন্যই কাজে, পড়ালেখায় ঝামেলা দেখলে, সেই স্পিরিট, সেই ইচ্ছা সোশ্যাল মিডিয়াতে, মিউজিক ভিডিও কিংবা ভিডিও গেমসের ব্ল্যাক হোলে গিয়ে হারিয়ে যায়।
যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়াতে তোর টাইম এবং কাজের স্পৃহা দুইটাই হারিয়ে যায়, সেহেতু সেখানে যারা আজাইরা জিনিস দেয় তাদেরকে আনফলো করে, তুই যাদের মতো হতে চাস তাদেরকে ফলো করবি। যাদের মতো হতে চাস তাদের সাথে আড্ডা দে, তাদের সাথে ঘুরতে যা। যেসব ইউটিউব ভিডিও দেখলে মোটিভেটেড হস সেগুলা সাবস্ক্রাইব কর। বাকিগুলাকে ব্লক কর। তাহলে যেসব জায়গায় গিয়ে তোর মোটিভেশন হারিয়ে যাওয়ার কথা সেখানে গিয়েই মোটিভেটেড হয়ে আসবি।
কিছু সফল মানুষদের জীবনী নিয়ে লেখা বই, কিছু শর্ট ভিডিও, কিংবা কিছু কমেডি ভিডিও শর্টলিস্ট করে রাখবি। সোশ্যাল মিডিয়াতে যেসব লেখা ভালো লাগবে সেগুলা পিডিএফ করে রাখবি। টায়ার্ড লাগলে, হতাশ হলে , কিংবা একটা ব্রেক নেওয়া লাগলে, রিলাক্স হতে গিয়ে সেগুলা দেখলে অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই রিচার্জ হয়ে আসবি। তাহলেই তোর ট্র্যাকে নিজেকে ধরে রাখা, লেগে থাকা ইজিয়ার হবে। আর নিজেই নিজেকে রিচার্জ করার রাস্তা খুঁজে বের না করলে, তুইও অন্য সবার মতো হয়ে যাবি। কারণ বাঁচতে হলে, ডাউন ব্যাটারি রেগুলার রিচার্জ করতে হবে। লেখকঃ ঝংকার মাহবুব। এই লেখাটি শেয়ার করো
Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.