Friday, May 14, 2021

ইজরায়েলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

[এই লেখাটি যারা ফিলিস্তিন, ইজরায়েল, হামাস, পিএলও, গাযা, পশ্চিমতীর সম্পর্কে কম জানেন, তাদের জন্য সংক্ষিপ্ত ওভারভিউ।  এটি পড়লে মোটামুটি একটা ধারণা পাবেন।]

ইজরায়েলে যারা শাসন করে তারা মূলত ইউরোপীয় ইহুদী। এদেরকে বলা হয় আশকেনাজি জুইশ। এরা ইউরোপ থেকে এসে ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে গেঁড়ে বসা ইহুদী।
কিছু আরব ইহুদী আছে, যারা আগে থেকেই ফিলিস্তিনে ছিল। আর কিছু অন্যান্য আরব দেশ থেকে এসেছে। এদেরকে বলা হয় মিজরাহি জুউশ। হিস্পানিক কিছু জুইশ আছে।
তবে এলিট শ্রেণী হচ্ছে- আশকেনাজি জুইশ। এরাই মূলত জার্মান আর ফ্রান্স থেকে বিতাড়িত হয়ে ফিলিস্তিনীদের জমি দখল করেছে।

এরা অসম্ভব উগ্র, জেনোফোবিক এবং ধণী। ইজরায়েলের এলিট শ্রেণী হচ্ছে এরা। এদের কালচারের সাথে আরব ইহুদীদের কালচার কোনোভাবেই মিলেনা।

ইহুদী ধর্ম অনুযায়ী মেসিয়াহ (মুসলমানদের কাছে দাজ্জাল) না আসা পর্যন্ত ইহুদীদের জন্য আলাদা দেশ গঠন করা পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ।
এই কারণেই অন্যান্য দেশের অর্থোডক্স ইহুদী এবং ইহুদী ধর্মগুরুগণ ইজরায়েলের বিরোধী।
কারণ এই রাষ্ট্র ইহুদী ধর্মমতেও নিষিদ্ধ।

ধর্মীয় দেশ দাবী করলেও ইজরায়েল মূলত কোনো ইহুদী দেশ নয়, এটা একটা জায়োনিস্ট দেশ। সহজ ভাষায় বললে- জায়োনিজম হচ্ছে ইহুদী জাতীয়তাবাদের একটি পলিটিক্যাল টার্ম।
জায়োনিস্ট হওয়ার জন্য ইহুদী হওয়া শর্ত নয়। অর্থাৎ ইহুদী নন এমন ব্যক্তিরাও জায়োনিস্ট হতে পারেন। আবার ইহুদী মানেও জায়োনিস্ট নয়।
জায়োনিজমকে বাংলায় সম্ভবত ইহুদীবাদ বলা হয়। হিন্দু আর হিন্দুত্ববাদ যেমন এক নয়, অনেকটা সেরকম। ইহুদী ধর্মকে বলা হয় জুদাইজম।

তো জায়নবাদের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে স্টেট অব ইজরায়েল জাতির পিতা থিউডর হার্ৎজেল। যার স্বপ্ন ছিল তার মুভমেন্টের সমর্থক ইহুদীদের জন্য আলাদা একটা দেশ হবে এবং সেটা হবে ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিতে।
সে আবার অবশ্য তার জীবদ্দশায় ইজরায়েল দেখে যেতে পারেনাই। তবে সে নানাভাবে চেষ্টা করেছিল।
ওসমানী খলীফা আব্দুল হামীদকে সে চিঠি লিখে প্রস্তাব দিয়েছিল যেন ইহুদীদের জন্য বাইতুল মোকাদ্দাসের কাছে কিছু জমি বরাদ্ধ দেয়া হয়।
বিনিময়ে তুরস্কের সব ঋণ পরিশোধ করে দেয়া হবে। খলীফা এই প্রস্তাব নাকচ করে দিলে ১৯০১ সালের মে মাসে থিওডর তার ক্লোজফ্রেন্ড পোলিশ ফিলিপ নিউলিন্সকিকে দিয়ে আবার প্রস্তাব পাঠায়। এবারে খলীফার জন্য বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ সহ নানা উপহারের প্রস্তাব দেয়া হয়।
উল্লেখ্য যে, অন্যান্য ব্যবসা এবং সুদের ব্যবসা করে ইহুদীরা অনেক আগে থেকেই প্রচুর সম্পদের মালিক।  ব্যাংকিং কনসেপ্ট জিনিসটাই ইহুদীদের থেকে তাদের সুদের ব্যবসা থেকে এসেছে। এই কারণে তাদের সম্পত্তি ছিল অঢেল।

খলীফা আব্দুল হামীদ বলেছিলেন- ফিলিস্তিনের ভূমি আমার একার সম্পদ নয় যে আমি লিখে দেব। প্রতিটা মুসলমানের রক্তের ফোঁটাতে এর মালিকানা। আমি বেঁচে থাকতে সেটা হতে দিতে পারিনা।

খলীফা আব্দুল হামীদ মারা গেছেন, ওসমানী খেলাফত ধ্বংস হয়েছে। খেলাফত বিলুপ্ত হয়েছে। বৃটিশরা যুদ্ধে জিতেছে। থিউডর হার্ৎজেল মারা গেছে। কিন্তু তার আইডিওলজি দিনে দিনে শক্তিশালী হয়েছে। তার স্বপ্নের দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বৃটিশরা ইউরোপ থেকে মার খাওয়া ইহুদীদের জন্য জায়গা বরাদ্ধ করে দিল ফিলিস্তিনে। থিউডরের স্বপ্নের সেই দেশ প্রতিষ্ঠিত হলো ফিলিস্তিনীদের রক্তের উপর। লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হলো। ঘরবাড়ী এবং জীবন হারালো।
জায়োনিস্টদের তখন সশস্ত্র মিলিশিয়া ছিল।
তারা ফিলিস্তিনীদের হত্যা করতো, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে সেই ভূমি দখল করতো।
এবং তারা বিশেষভাবে বৃটিশদের সহায়তা পেত।

ইহুদীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত এই ইজরায়েলেও ইহুদীরাই বৈষম্যের শিকার হয়। যারা কালো ইহুদী তারাও বৈষম্যের শিকার হয়। এ নিয়ে তারা অনেকবার রাস্তায় নেমেছে।  সবচেয়ে বেশী শিকার হয় আরব ইহুদীরা। কারণ তাদের ভাষা আরবী, তাদের বেশভূষা আরব মুসলমানদের মত। আরবী বলার কারণে তাদের চাকরী হয়না, আরবদের মত পোষাক পরায় চাকরী হয় না।
ধর্মে ইহুদী হওয়ার পরও জাতিতে একই না হওয়ায় তারা নানা বৈষম্য, বুলিং এবং হেনস্থার শিকার হয়। তাদের বলা হয় আরবদের ঘৃণা করতে। তো যারা পূর্বে আরব দেশে ছিল, তারা অর্থ্যাৎ বৃদ্ধরা বিষয়টা মেনে নিতে পারেনা। তারা প্রতিবাদ করে। কোনো লাভ হয় না।

তো যারা নিজ ধর্ম ইহুদীদের সাথেই এমন করে, তারা আরব মুসলমানদের সাথে কেমন আচরণ করবে সেটা সহজেই অনুমেয়। আবার আমরা তো দেখতেও পাই।

ইজরায়েল শুরু থেকেই বৃটিশ এবং আমেরিকানদের প্রত্যক্ষ সাপোর্ট পেয়ে আসছে। আরব ইজরায়েল যুদ্ধে আমেরিকান সৈন্যরা ইজরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ করেছে বলেও বলা হয়।

এখনো যখন ইজরায়েল ফিলিস্তিনীদেরকে হত্যা করে, নারী-শিশুদেরও হত্যা করে, ধরে নিয়ে যায় এ নিয়ে জাতিসংঘ ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব আনলে আমেরিকা ভেটো দেয়। সরাসরি ইজরায়েলকে রক্ষা করে।
জাতিসংঘের আইন, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার, যুদ্ধাপরাধ আইন সব কিছুই তারা নিয়মিত লংঘন করে। কিন্তু তাতে তাদের কোনো কিছুই হয় না। কারণ আমেরিকা আছে। তারা প্রকাশ্যেই ইজরায়েলকে রক্ষা করে নেয়, একদম নগ্নভাবে।

ইজরায়েলের কোনো সীমানা নেই। কারণ, তারা প্রতিদিনই দখল করে চলেছে।
যেকোনো দিন ইহুদী সেটেলার এসে আপনাকে বলবে এই ঘর আমার। এরপর ইজরায়েলী পুলিশ এসে আপনাকে বের করে দেবে, পুরুষদের জেলে নিয়ে যাবে। তারপর বুলডোজার এসে আপনার ঘর গুঁড়িয়ে দেবে। এরপর সরকারী টাকায় সেখানে ইহুদীদের জন্য ঘর বানানো হবে।
নিজেদের শত শত বছরের ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়া ফিলিস্তিনীরা এক দিনেই উদ্বাস্তু হয়ে গেল। রিফিউজি হিসেবে কোথাও আশ্রয় নিতে হবে।
এভাবে তারা প্রতিদিন ঘরবাড়ী দখল করে নেয় আর ফিলিস্তিনীরা উদ্বাস্তু হয়।
ইহুদীদের জন্য ঘরবাড়ী বানানোর জন্য যে টাকা খরচ হয়, তার জন্যও আমেরিকা থেকে সরকারী এবং বেসরকারিভাবে টাকা আসে।
আবার প্রতিবছর ইজরায়েলের জন্য প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা আসে।
পশ্চিমের দেশগুলোতে ইজরায়েলীদের জন্য প্রায় ভিসা ফ্রী। নামী দামী ইউনিভার্সিটি গুলোতে তারা স্কলারশিপ পায়। এর বাইরে আবার প্রায় সব বড় বড় কোম্পানীর বিলিয়ন ডলারের ইনভেস্টমেন্ট আছে ইজরায়েলে। তারা শিক্ষাখাতে ইনভেস্ট করে, গবেষণা খাতে ইনভেস্ট করে, ট্যুরিজম খাতে ইনভেস্ট করে।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনীরা আগামীকাল পর্যন্ত তাদের বাড়ীটা থাকবে কিনা জানে না। প্রাণ থাকবে কিনা সেটাও জানেনা। স্কুলটা থাকবে কিনা তাও জানেনা। রাত বিরাতে এসে তল্লাশী চালিয়ে ইজরায়েলী পুলিশ যাকে তাকে ধরে নিয়ে যায়। অল্পবয়সী শিশু হলেও কোনো রক্ষা নাই।

ফিলিস্তিনীদের সেনাবাহিনী কিংবা পুলিশ ফোর্স রাখারও পারমিশন নাই। ফিলিস্তিনী সিকিউরিটি ফোর্স নামে একটা বাহিনী আছে, তাদের ভারী কোনো অস্ত্র রাখার অনুমতি নাই।
ইজরায়েলের সাথে এক চুক্তিতে এটা মেনে নেয় ইয়াসির আরফাতের পিএলও।
ফলে মাহমুদ আব্বাস নামের প্রেসিডেন্ট হলেও কাজে কোনো ক্ষমতা তার নাই।

ইজরায়েল দখল করতে করতে ফিলিস্তিনকে এমনভাবে দখল করেছে- একপাশে গাযা উপত্যকা, অন্যপাশে পশ্চিম তীর। মাঝখানে ইজরায়েল।
ব্যাপারটা অনেকটা পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম পাকিস্তানের মত পশ্চিম তীর আর গাযা, মাঝখানে ভারতের মত ইজরায়েল।
মনে করার সুবিধার্তে, গাযা হচ্ছে বাংলাদেশ, পশ্চিম তীর পাকিস্তান। মাঝখানে ভারত হচ্ছে ইজরায়েল।
(ভৌগোলিক অবস্থান বা ম্যাপ বুঝার সুবিধার্তে বললাম)।

ইজরায়েলীরা পৃথিবীর ১৬০টি দেশে প্রায় ভিসা ফ্রী ঘুরতে পারলেও ফিলিস্তিনীরা এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় যেতে ইজরায়েলের অনুমতি নিতে হয়। ফিলিস্তিনের গাযা উপত্যকা থেকে যদি কেউ ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে যেত চায়, তাহলে অনেকদিন আগে এপ্লাই করতে হয়। তাও ৯০% ক্ষেত্রে অনুমতি পাওয়া যায় না। জিজ্ঞাবাদে ইজরায়েল সন্তুষ্ট হলেই কেবল অনুমতি দেয়।
বেশীরভাগ গাযাবাসী কখনো আল আকসা মসজিদ চোখে দেখেনি। কারণ আল আকসা পশ্চিমতীরে।

পিএলও আর হামাস হচ্ছে ফিলিস্তিনের দুটি রাজনৈতিক দল। হামাস সংখ্যাগরিষ্ঠ গাযাতে আর পিএলও পশ্চিম তীরে।

তবে ২০০৬ সালে পুরো ফিলিস্তিনের নির্বাচনে হামাস পিএলওর উপরে জয়লাভ করে ফিলিস্তিনের ক্ষমতায় আসে। ইসমাইল হানিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়। মাহমুদ আব্বাস প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা দখল করে নেয়।
অনেকটা পাকিস্তানের নির্বাচনের মত। শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচিত হয়েও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি। ইসমাইল হানিয়ার ক্ষেত্রেও তাই ঘটে।

এরপর থেকে ইসমাইল হানিয়া তার এলাকা গাযাতেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকেন।
বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়ে যাওয়ার মত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ফিলিস্তিন নিজেই তো স্বাধীন নয়।

মাহমুদ আব্বাসের পিএলও ইজরায়েলী সকল শর্ত মেনে ফিলিস্তিন তথা পশ্চিমতীরকে ডিমিলিটাইরাইজড করলেও গাযার হামাস সেটা মেনে নেয়নি।
পশ্চিম তীরে ইজরায়েলী শর্ত অনুযায়ী কোনো সেনাবাহিনী নেই।  সিকিউরিটি ফোর্স আছে, যাদের নামে মাত্র একটা পুলিশ ফোর্স আছে। যেটা আছে তাদেরও শর্ত হচ্ছে ইজরায়েলী পুলিশকে সাহায্য করতে হবে। তাদের কোনো ভারী অস্ত্র নেই। হাল্কা অস্ত্র যা আছে, সেটাও ইজরায়েলের দেয়া। ওদের গাড়ীও ইজরায়েলের দেয়া। যা ইজরাইল সবসময় ট্র‍্যাক করে।
কোনো ফিলিস্তিনীকে জোর করে বেআইনিভাবে ধরে নিয়ে গেলেও ফিলিস্তিনী সিকিউরিটি ফোর্স কিছু করতে পারেনা।
এজন্য পশ্চিম তীরের যেকোনো বাড়ীতে ইজরায়েলী পুলিশ চাইলে যেকোনো সময় তল্লাশী চালাতে পারে। আমরা যে পাথর ছুড়ার দৃশ্য দেখি, এগুলা বেশীরভাগই পশ্চিম তীরের। কারণ তাদের অস্ত্র রাখার অনুমতি নেই।

অন্যদিকে হামাস শাসিত গাযা উপত্যকা ইজরায়েলের কোনো শর্ত মানেনা। তাদের মিলিটারী আছে। তাদের অঞ্চলে ইজরায়েলী পুলিশ ঢুকতে পারেনা। তারা নিজেরাই সেখানকার নিরাপত্তা দেয়। তাদের আর্টিলারি ইউনিট আছে। তাদের কাছে ভারী অস্ত্র আছে।
যার বেশীরভাগ তারা নিজেরাই তৈরী করে।

ইজরায়েলের শর্ত মেনে না নেয়ায় গাযা উপত্যকাকে ইজরায়েল চারিদিক থেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। গাযার দুইদিকে ইজরায়েল, একদিকে মিশর আরেকদিকে সমুদ্র।
তাদের উপর ইজরায়েল ল্যান্ড, এয়ার এন্ড সী ব্লক দিয়ে রেখেছে। গাযা উপত্যকাকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জেল খানা।
মিশর সীমান্তে আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি দেয়াল তুলে দিয়েছে। ফিলিস্তিনীদের চলাচলের জন্য মাটির নীচে সুড়ঙ্গ ছিল, সেগুলো সে বন্ধ করে দিয়েছে।
মুহাম্মদ মুরসী ক্ষমতায় আসার পর যখন মিশর সীমান্ত ফিলিস্তিনীদের জন্য খুলে দেয়, তখন ইজরায়েল মুরসীকে সবচেয়ে বড় থ্রেট হিসেবে নেয়।
ইজরায়েল, সৌদি ও আমিরাত জোট মুরসীকে হটিয়ে সিসিকে ক্ষমতায় আনে।
সে সময়ে সিসিকে সবার আগে অভিনন্দন জানায় সৌদি আরব।
যদিও ইজরায়েলের উদ্দেশ্য আর তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন, লক্ষ্য ছিল একই।
কপাল পুড়ে ফিলিস্তিনীদের।
এরপর থেকেই ফিলিস্তীনের জন্য সেই সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায়। সুড়ঙ্গ পথ ব্যবহারের জন্য মিশর সীমান্তে যে ঘরবাড়ি গুলো ছিল, বুলডোজার দিয়ে সেসব বাড়ীও ভেঙে দেয় মিশর।

হামাস শাসিত গাযায় শিক্ষার হার ৯৯%। ইজরায়েলী হামলায় ঘরবাড়ি ভেঙে গেলে সবার আগে তারা স্কুল গুলোকে ঠিক করে। তাদের একটা আন্তর্জাতিক মানের ইউনিভার্সিটি আছে।
গাযায় একটা বিমানবন্দর ছিল, গাযা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট নামে, যা ইজরায়েল ধ্বংস করে দেয়।
পুরো ফিলিস্তিনে আর কোনো এয়ারপোর্ট নেই।

হামাসের সাথে ইজরায়েলের ফুল স্কেলে দুইবার যুদ্ধ হয়। এতে ইজরায়েলী আর্মীর ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। ২০১৪ সালের যুদ্ধে ইজরায়েলী সেনাদের ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলে ইজরায়েল পিছু হটে। জুলাইয়ের ৮ তারিখ থেকে আগস্টের ২৬ তারিখ পর্যন্ত স্থায়ী এই যুদ্ধে প্রায় ১শ ইজরায়েলী সেনা নিহত হয়, অপরদিকে দুই হাজার ফিলিস্তিনী শহীদ হয়।
কিন্তু ইজরায়েলের জন্য এটাও ছিল বিশাল ধাক্কা।

গাযা উপত্যকায় খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় অষুধ সহ চোরাই পথে আনতে হয়।
ইরান চোরাইপথে অস্ত্র আর কাতার টাকা দেয়।
এর বাইরে তুরস্ক সমুদ্র সীমা আর ইজরায়েলী সীমা ব্যবহার করে জাহাজভর্তি খাবার, অষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য গাযায় পৌঁছে দেয়। একবার তুরস্কের একটা জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল ইজরায়েল।
সৌদি আরব সহ অন্যান্য আরবদেশ গুলো তাদের দানের একটা বড় অংশ ফিলিস্তিনে পাঠায়। তবে সেটা গাযায় নয় বরং পশ্চিমতীরে যায়।

ইজরায়েল হামাসকে বার বার বলছে- তোমরা যদি আমাদের শর্ত মেনে নাও, সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করো, অস্ত্র সমর্পণ করো, নিরস্ত্র হও তাহলে তোমাদের অবরোধ আমরা তুলে নেব। তোমরা যেখানে চাও যেতে পারবে। আমাদের এখানে চাকরী করতে পারবে। যা কিনতে চাও, তা কিনতে পারবে।
মাহমুদ আব্বাসের পিএলও পশ্চিমতীরে এই শর্ত মেনে নিলেও ইসমাইল হানিয়া আর খালিদ মিশালের গাযা উপত্যকার হামাস সেটা মেনে নেয়নি। যার কারণে তারা অবরুদ্ধ।
এই কারণে পশ্চিমতীরের ফিলিস্তিনীরা ইজরায়েলের দিকে ঢিল আর পাথর ছুঁড়লেও গাযা উপত্যকার ফিলিস্তিনীরা অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করে, ইজরায়েলের দিকে মিসাইল ছুঁড়ে।

যদিও ইজরায়েলী অত্যাধুনিক ডিফেন্স সিস্টেম আইরন ডোম ফিলিস্তিনীদের এই মিসাইল আকাশে থাকতেই ধ্বংস করে।
তবে এইবার ইজরায়েলের আইরন ডোম হামাসের মিসাইল গুলো সব আটকে দিতে সক্ষম হয়নি।
অনেক গুলো মিসাইল ইজরায়েলের নানা শহরের রাস্তা এবং ভবনে আঘাত হেনেছে। এতে ইজরায়েল সহ তার মিত্ররা বেশ অবাক হয়েছে।
যদিও এ ব্যাপারে ইসমাইল হানিয়ে গত বছর বলেছিলেন।

আইরন ডোম কতটা আঘাত ঠেকাতে সক্ষম সেটা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।
কারণ হামাসের মিসাইল গুলো কোনো অত্যাধুনিক মিসাইল নয়। এগুলো তারা পাইপ এবং অন্যান্য পরিত্যক্ত জিনিসপত্র থেকে বানায়।
এই হ্যান্ডমেইড রকেট গুলো আঘাত হানার পর আইরন ডোম কতটা সেফ সেটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

প্রায় চার বিলিয়ন ডলার বার্ষিক সামরিক সহায়তা, বিলিয়ন ডলারের শিক্ষা এবং রিসার্চের ইনভেস্টমেন্ট, প্রায় ভিসা ফ্রী ট্রাভেল, নামী ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ, আমেরিকা, কানাডা,  ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপের একনিষ্ঠ সাপোর্ট এত কিছু পাওয়া ইজরায়েলের সাথে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের তুলনা করার সময় আপনারা যারা  "ইজরায়েল জ্ঞান বিজ্ঞানে কত এগিয়েছে অথচ ফিলিস্তিন জ্ঞান বিজ্ঞানে আগায় নাই কেন?" বলেন, আপনাদের লজ্জা করে না?

#FreePalestine #Palestine #Israel #Hamas #Gaza #PLO
#filistin

(তাহমিদুল ইসলাম) 

Labels:

Tuesday, March 10, 2020

আমাদের খনিজ বালিতেও আছে পৃথিবীর বিরল পদার্থ!

বিরল খনিজ উৎপাদনে বিশ্বশীর্ষ চীন চতুর্থ মিয়ানমার
আমাদের খনিজ বালিতেও আছে পৃথিবীর বিরল পদার্থ!

নবায়নযোগ্য জ্বালানী ও পরমাণু চুল্লীর নিরাপত্তা রক্ষাসহ উচ্চ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত ‘পৃথিবীর বিরল ধাতু’র (আরইএম বা আরইই নামে পরিচিত) উৎপাদন বিশ্বব্যাাপী বাড়ছে।  এমনকি আমাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার মাত্র ২ বছর আগে বিরল ধাতু উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় যোগ দিয়েই রাশিয়া-ভারতকে পেছনে ফেলে বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ স্থানটি দখল করে নিয়েছে। 
পৃথিবীর বিরল ধাতুসমূহের মোট মজুদের এক তৃতীয়াংশই ভারতীয় উপমহাদেশে রয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সমুদ্র ও নদ-নদীর তীরের বালিতে পাওয়া মোনাজাইটে যে ল্যান্থানাইড সিরিজ আবিষ্কৃত হয়েছে, সেখানেই পৃথিবীর বিরল ধাতুগুলোর উপস্থিতি রয়েছে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।    
পৃথিবীর ১৭টি বিরল খনিজ পদার্থকে একযোগে ‘রেয়ার আর্থ মেটেরিয়াল/এলিমেন্ট’ বা আরইএম/আরইই বলা হয়। পদার্থগুলো হল- সেরিয়াম (সাংকেতিক নাম সিই), ডিসপ্রোজিয়াম (ডিওয়াই), এরবিয়ামি (ইআর), ইউরোপিয়াম (ইইউ), গ্যাডুলিনিয়াম (জিডি), হলমিয়াম (এইচও), ল্যান্থানাম (এলএ), লুটেটিয়াম (এলইউ), নিউডাইমিয়াম (এনডি), প্র্যাস্যুডিয়াম (পিআর), প্রোমেথিয়াম (পিএম), সামারিয়াম (এসএম), স্ক্যান্ডিয়াম (এসসি), টারবিয়াম (টিবি), থুলিয়াম (টিএম), ইত্তেরবিয়াম (ওয়াইবি) ও ইত্তিরিয়াম (ওয়াই)। 
পৃথিবীর বিরল উপাদানসমূহের সবগুলোরই অস্তিত্ব দেশে রয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক ভ‚-তত্ত¡বিদ ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ্যা ও প্রকৌশল বিভাগের প্রধান, প্রফেসর ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম পৃথিবীর কোন বিরল পদার্থ নয়। কিন্তু বিশ্বে বিরল পদার্থ হিসাবে চিহ্নিত ১৭টি ধাতুর সবগুলোরই অস্তিত্ব কক্সবাজার সৈকতসহ ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের বালিতে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
বিশিষ্ট ভ‚-রসায়নবিদ ড. আশরাফ বলেন, ইতোমধ্যে সৈকতের খনিজ বালিতে পাওয়া মোনাজাইটে যে ল্যান্থানাইড (এলএন) সিরিজ আবিষ্কৃত হয়েছে, সে সিরিজেই থাকে পৃথিবীর বিরল উপাদান পদার্থগুলো। সুতরাং আমাদের দেশেও যে আরইএম রয়েছে, তা এক প্রকার নিশ্চিত। সাধারণত: মোনাজাইটে ৫০% ল্যান্থানাইড থাকে। তবে আমাদের দেশে এসব বিরল পদার্থের মজুদ বা মান নিয়ে তেমন কোন গবেষণা হয়নি বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবীর বিরল পদার্থগুলো ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তিখাতে ব্যবহৃত হয়। এরমধ্যে এরবিয়াম দিয়ে তরঙ্গ বর্ধক হিসাবে লেজার অপটিক্যাল, লেজার অস্ত্র, অপটিক্যাল ফাইবারসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ যৌগিক পদার্থ তৈরি হয়। ইটার্বিয়াম ব্যবহৃত হয় গামা রশ্মির উৎ্স হিসাবে এবং স্টেইনলেস স্টিল বা সক্রিয় লেজার মিডিয়াগুলির ডোপান হিসাবে। সাধারণত: মোনাজাইট, ইউসেনাইট এবং জেনোটাইমে মিশে থাকে ইটার্বিয়াম। লুটেটিয়াম (লুটেটিয়াম-১৭৬) পারমানবিক চিকিৎসা পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমারগুলিতে রেডিওনিউকিয়¬াইড থেরাপির কাজে ব্যবহৃত হয় উপাদানটি। 
গ্যাডোলিনিয়াম ধাতু লবণ হিসাবে নিউট্রন শোষণ করে। তাই পারমাণবিক চুল্লিগুলোকে রক্ষা করার জন্য নিউট্রন রেডিওগ্রাফি হিসাবে ব্যবহৃত হয় ধাতুটি।
ডিসপ্রোসিয়াম এর উচ্চ তাপীয় নিউট্রন শোষণ ক্ষমতার কারণে পারমাণবিক চুল্লির নিয়ন্ত্রণ রড তৈরির কাজে, ডেটা স্টোরেজ অ্যাপি-কেশনগুলিতে উচ্চ চৌম্বকীয় সংবেদনশীলতার জন্য এবং টেরেফেনল-ডি (একটি চৌম্বকীয় উপাদান) এর উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
ইউরেনিয়াম ও থোরিয়ামের মত ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয়তা শোষনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করে স্যামারিয়াম। স্যামারিয়াম-১৫৩ ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং স্যামারিয়াম-১৪৯ নিউট্রন শোষক হিসাবে পারমানবিক চুল্লী নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কোন পদার্থের তেজস্ক্রিয়তা নির্ণয়েও ব্যবহৃত হয় পদার্থটি। হেডফোন বা সাউন্ড ডিভাইস তৈরীতে ব্যবহৃত হয় স্যামারিয়াম কোবাল্ট। 
ইত্তিরিয়ামের ব্যবহার ইলেক্ট্রোড, ইলেক্ট্রোলাইটস, ইলেকট্রনিক ফিল্টারস, লেজারস, সুপারকন্ডাক্টর ও বিভিন্ন চিকিৎসা অ্যাপি¬কেশন ব্যবহৃত হয়। তবে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হয় এলইডি বা ফসফরাস হিসাবে, বিশেষত টেলিভিশন সেটের ক্যাথোড রে টিউব ডিসপ্লেতে।
নিওডাইমিয়াম এবং প্রসোডিয়ামিয়াম এর ব্যবহার নবায়নযোগ্য জ্বালানী হিসাবে। উচ্চ প্রযুক্তির শিল্পে এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে, বিশেষত বৈদ্যুতিক যানবাহন ও হাইব্রিড গাড়িতে। পৃথিবীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানী দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় এসব পদার্থের গুরুত্বও দিনদিন বাড়ছে। 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৮ সালে সারা বিশ্বে বিরল ধাতব উৎপাদন হয় ১ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন। অথচ এর আগের বছর উৎপাদিত হয় ১ লাখ ৩২ হাজার মে.টন। ২০১৮ সালে বিরল ধাতব উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় নতুন যুক্ত হয় আমাদের প্রতিবেশী মিয়ানমার। আর প্রথম বছরেই তারা বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ স্থানটি দখল করে নেয়। বর্তমানে প্রতি বছর তারা ৫ হাজার মেট্রিক বিরল ধাতু উৎপাদন করছে। বিরল ধাতু উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানটি চীনের। চীন বছরে ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন বিরল ধাতু উৎপাদন করছে। আর মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন বিরল ধাতু উৎপাদন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, তারা বছরে প্রায় ২০ হাজার মে. টন বিরল ধাতু উৎপাদন করে। 
পৃথিবীর বিরল ধাতুসমূহের মোট মজুদের এক তৃতীয়াংশই ভারতীয় ভ‚-খন্ডে বলে ধরে নেয়া হয়। অথচ ভারতে বছরে বিরল ধাতু উৎপাদন হয় মাত্র ১ হাজার ৮শ মেট্রিক টন, যা মিয়ানমারের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। আর বাংলাদেশ এখনও বিরল ধাতু উৎপাদন ক্লাবে যোগ দিতে পারেনি। 
বিরল ধাতু উৎপাদনকারী শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় রাশিয়ার অবস্থানও মিয়ানমারের নীচে। বছরের ২ হাজার ৬শ মে. টন বিরল ধাতু উৎপাদন করে রাশিয়ার অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম। আর ভারতের অবস্থান রাশিয়ার পরের, অর্থাৎ ষষ্ট। আর তালিকার নীচের দিকের অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল, থাইল্যান্ড ও বুরুন্ডি। এসব দেশ বছরে প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন বিরল ধাতু উৎপাদন করে। মিয়ানমারের মতোই বুরুন্ডিও বিরল ধাতু উৎপাদনকারী ক্লাবের নতুন সদস্য। অথচ দেশ দুটিই স্বল্পোন্নত। 
বিরল ধাতু উৎপাদনকারী টপটেন জাতির তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে মিয়ানমারের প্রতিবেশী ভিয়েতনামও। তারা বছরে ৪শ মেট্রিক টন বিরল ধাতু উৎপাদন করছে। অথচ এবিষয়ে বাংলাদেশ এখনও গবেষণাও শুরু করেনি। 
সম্প্রতি দেশের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের বালিতে চালানো ভ‚-তাত্তি¡ক জরীপে অন্যান্য মূল্যবান পদার্থের সাথে মোনাজাইটের অস্তিত্বও পাওয়া গেছে। যার অন্যতম প্রধান উপাদান ল্যান্থানাইড। এরআগে ১৯৬৮ সালে ‘দেশের দক্ষিণ-পূব উপকূলীয় অঞ্চলের বালিতে ভারি খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান, জরীপ, বালির নমুনা বিশ্লেষণ, খনিজের পরিমাণ নির্ধারণ’ বিষয়ে ৫৫০ কি.মি ব্যাপী সৈকতে দুইজন অস্ট্রেলীয় বিশেষজ্ঞের সহায়তা চালানো ভ‚-তাত্তি¡ক জরীপেও মোনাজাইটের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। জরীপে কক্সবাজার, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও কুয়াকাটা সৈকতের বালিতে মোট ১৭,৩৫২ মেট্রিক টন মোনাজাইটের মজুদ পাওয়া যায়। যার অর্ধেকই বিরল পদার্থে ভরপুর। 
সম্প্রতি কক্সবাজারের ভ‚-গর্ভস্থ বালিতে থাকা মোনাজাইটে উচ্চমাত্রায় (১৬%) ইউরোনিয়ামের অস্তিত্ব ধরা পড়ে জাপান, সুইডেন ও ত্রিশালস্থ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের গবেষণায়। ইউরেনিয়াম পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানী হিসাবে ব্যবহৃত হয়। জ্বালানী হিসাবে ইউরেনিয়ামের শক্তি তেল অথবা কয়লা তুলনায় ২০ লাখ থেকে ৩০ লাখ গুণ বেশি।    
দেশের সমুদ্র উপকূলীয় ও নদীবাহিত বালিতে অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণসম্পন্ন খনিজ, বিশেষ করে সিলিকা সমৃদ্ধ বালি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে ভ‚-তাত্তি¡ক জরীপ অধিদপ্তরও।
এবিষয়ে ভ‚-তাত্তি¡ক জরীপ অধিদপ্তর এর পরিচালক (ভ‚তত্ব) ড. সাইদুল হোসেন বলেন, আমাদের খনিজ বালিতেও পৃথিবীর বিরল পদার্থ থাকতে পারে। এনিয়ে এখন জরীপ চলছে। 
তিনি বলেন, আমরা জরীপ করে খনিজ সম্পদের সন্ধান করি, আর তাকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার দায়িত্ব পরমাণু শক্তি কমিশনের।     
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজারস্থ পরমাণু শক্তি কমিশনের খনিজ বালি আহরণ কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. রাজিব বলেন, পৃথিবীর অল্প সংখ্যক জাতিই পরমাণু প্রযুক্তি অর্জন করতে পেরেছে। তাদের অবস্থানে পৌঁছাতে আমাদের ১শ থেকে ২শ বছর সময়ের দরকার।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তির উন্নয়নে পাবনার রূপপুরে রাশিয়ার সহযোগিতায় ২টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে সরকার। ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্র দুটি ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এ দুটি কেন্দ্রে জ্বালানী হিসাবে বিদেশী উপকরণই কেবল ব্যবহৃত হবে। 
অন্যদিকে ২০১৩ সালের ২৯ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ কোন দ্বীপে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।  
আমাদের দেশের মাটিতে ও সমুদ্রের পানিতে থাকা মূল্যবান খনিজ পদার্থগুলো প্রযুক্তিগতজ্ঞানের উন্নয়নের মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করার উপর জোর দেন দেশের প্রবীণ পরমাণু বিজ্ঞানী ও পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক পরিচালক ড. মোহাম্মদ মীর কাশিম। পরমাণু বিজ্ঞানী মরহুম ড. ওয়াজেদ মিয়ার এই সহপাঠী বলেন, তাহলেই জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সফল হবে। পরমাণু বিজ্ঞানী মরহুম ওয়াজেদ মিয়ার স্বপ্নও সফল হবে।
এবিষয়ে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বøু-ইকনোমি সেলের প্রধান ড. গোলাম শফিউদ্দিন বলেন- দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণার উপর জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আশা করি, দেশের খনিজ বালিতে পাওয়া মূল্যবান পদার্থ নিয়েও দেশে গবেষণা হবে। 
-আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার\ ০৯ মার্চ, ২০২০\

Labels:

Tuesday, January 7, 2020

রোয়ান এটকিনসনঃ স্পিকিং ডিসওর্ডারে ভোগা ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার



ছবিতে থাকা মানুষটির নাম রোয়ান অ্যাটকিনসন।যাকে আমরা মি. বিন নামে চিনি।পর্দায় এই লিজেন্ড মানুষটিকে বোকা মনে হলেও বাস্তবে কিন্তু তিনি ছিলেন নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পাশ করা একজন গ্রেজুয়েট।
১৯৫৫ সালের আজকের এই দিনে লন্ডনের  কাঞ্চেট শহরে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জন্ম।তার বাবা ছিলেন একজন কৃষক এবং মা ছিলেন গৃহিনী।ছোট বেলা থেকেই তিনি ছিলেন অনেক মেধাবী ছাত্র।কলেজে  পড়াকালীন তিনি ভিজুয়াল শো এর স্ক্রিপ্ট লিখতেন এবং সেই চরিত্র গুলো কেমন হবে তাদের হাবভাব কিরকম হবে এই গুলো তিনি দেখিয়ে দিতেন।এভাবে করতে করতে একসময় লক্ষ করেন তিনি ভিজুয়াল কমেডিতে পারদর্শী।যার কারনে তিনি কলেজের বিভিন্ন শো গুলোতে অভিনয় করার জন্য নাম দিতেন।কিন্তু তিনি ছিলেন Speaking Disorder যাকে বাংলায় আমরা তোতলা নামে চিনি।যার কারনে তিনি কলেজের বিভিন্ন শো গুলো থেকে বাদ পড়ে যেতেন।এরপর তিনি বিভিন্ন টিভি শো গুলোতে এপ্লাই করলে তার Speaking Disorder এর জন্য তাকে রিজেক্ট করে দেয়া হতো।এরপর তিনি নিজিকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেন।তার দুরবলতা গুলো তিনি খুজতে থাকেন।



একসময় তিনি রিয়েলাইজ করলেন তিনি এমনি কথা বলতে গেলে বলতে পারছেন না কিন্তু যখন অভিনয় করতে যান তখন তিনি ঠিকভাবে কথা বলতে পারছেন। তিনি আবার টিভি শো গুলোর জন্য এপ্লাই করেন।কিন্তু এবার তাকে সুন্দর চেহারা আরর হিরোয়িক বডি না থাকার কারনে তাকে আবার রিজেক্ট হতে হয়।এক্ষেত্রে আপনি কিংবা আমি হলে হয়তো হার মেনে যেতাম।কিন্তু রোয়ান অ্যাটকিনসন ছিলেন একজন প্রতিভাবান মানুষ।তার অভিনয়ের এবং টেলেন্টের প্রতি ছিলো তার অগাদ বিশ্বাস।অক্সফোর্ড ইউনিভারসিটি এবং কুইনস কলেজ থেকে তুনি মাস্টার্স ডিগ্রি কমপ্লিট করেন।এই সময় তার সাথে পরিচয় হয় নাট্যকার  রিচার্ড কার্টিস এর।মি বিন জানতেন যে তিনি টিভি শো এর জন্য এপ্লাই করলে তাকে আবার রিজেক্ট হতে হবে।এইজন্য তিনি এবং নাট্যকার রিচার্ড মিলে মি. বিন টিভি সিরিজ বানানোর পরিকল্পনা গ্রহন করেন।মজার বেপার হলো এই মি. বিন এর প্রথম নাম নাম দেয়া হয়েছিল মি. হোয়াইট।কিন্তু ডিরেক্টর এর নাম দেন কোনো একটা শাকসবজির নামে মি. কাউলি ফ্লাওয়ার।পরবর্তীেত সবাই মিলে এর নাম দেন মি. বিন।
১৯৮৭ সালে আমেরিকার একটি শহরে তিনি শো করতে যান যার নাম ছিলো"জাস্ট ফর লাভ"।সেখানে তাকে অনুষ্ঠানের অনাররা জিঞ্জাসা করেছিলো তিনি কোন ভাষায় কথা বলতে যাচ্চেন?তিনি বলেছিলেন জাপানিজ ভাষায়।যদিও তার শো তে জাপানিজ কোনো ভাষাই ছিলো না।তার শো টা ছিলো নন সাইন্ড একটি শো।তিনি শুধু দেখতে চেয়েছিলেন কথা না বলা শো তে তিনি কিরকম রিয়েকশন পান।
এরপর ১৯৯০ সালে মি. বিন টিভি সিরিজটি পাব্লিশ হয়।এই পর্যন্ত তার করা মোট ১৫ টি টিবি সিরিজ পাব্লিশ হয়।যা শুধু তার নিজের দেশেই নয় বিশ্বের অনেক দেশেই তার টিবি সিরিজ গুলো জনপ্রিয়।
উনি বলেছিলেন," To be successful,You dont need beautiful face and heroic body.
Want you need is skillful mind and ability to perform.
অর্থাৎ  জীবনে সফল হওয়ার জন্য দেখতে সুন্দর এবং নায়কের মতো চেহারা হওয়ার ধরকার নেই।
যেটা ধরকার সেটা হলো সুদক্ষ মন এবং সেটাকে সটিক ভাবে পরিচালনা করার পারদর্শিতা।
সবশেষে একটা কথা ই বলবো,"Happy birthday ligend".
বিঃদ্রঃসব তথ্য উইকিপিডিয়া এবং বিভিন্ন ওয়েব সাইট থেকে নেওয়া।শুধু লেখাটাই আমার।ভুল হলে ক্ষমার যোগ্য।

- MD . Shihab  Uddin

Labels:

Tuesday, December 31, 2019

২০১৯ এ বিজ্ঞানের স্মরণীয় ঘটনাগুলি

২০১৯ সালে সাইন্স এ কি কি ঘটলো তা আমাদের জানা উচিৎ!..

এর জন্য ২ ক্যাটাগরি করা যাক

১. মানুষের এর মাইলফলক

২. মানুষ দ্বারা ক্ষতি সাধন

তো এগুলোর ১ম টি থাকবে এই পোস্টে!.

১.মানুষের মাইল ফলক :

জানুয়ারি : The new horizons space probe(যেটি একটি স্পেস ক্রাফট সেটি উড়ে চলছে পৃথিবীর থেকে সোলার সিস্টেম এর বাইরের দিকে) সেটি The kuiper belt এর পাশ দিয়ে উড়ে চলছে যেটি অন্য কোনো সোলার সিস্টেম এর বাইরের কোনো অংশ।

২.কৃষি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় তারা সফল ভাবে ফসল কে ৪০% দ্রুততম সময়ে ফলাতে সামর্থ্য অর্জন করেছেন ল্যাবরেটরির বাইরে Photorespiatory এর shortcut বের করে।

৩.পৃথিবীর সর্বপ্রথম ১ টিবি এসডি কার্ড বা ম্যামরি কার্ড তৈরীর ঘোষণা দেয় lexar নামের চাইনিজ ম্যামরিকার্ড বানানো কোম্পানি।

৪. পাশাপাশি IBM ঘোষণা দেয় IBM Q system One এর যেটি সর্বপ্রথম কোয়ান্টাম কম্পিউটার এর কমার্সিয়ালি বাজার যাত হওয়া।

ফেব্রুয়ারী :

১. মেডিকেল সাইন্টিস্ট রা ঘোষণা করেছেন ফটোসিন্থেসাইজড মলিকিউল যা কি না ক্যান্সারের কোষ কে ধংস করতে সক্ষম । যেটি কিনা তৈরি হবে এলবুমিন এর সাথে ইরিডিয়াম এর সংযুক্তির মাধ্যমে।।

২. ১ টিবি মাইক্রো এসডি কার্ড তৈরীর ঘোষনা দেয় মাইক্রোন নামের আমারিকার কম্পিউটার স্টোরেজ নির্মাতা কোম্পানি।

মার্চ

১. স্পেসএক্স ড্রাগন, মহাকাশযানের নতুন সংস্করণটি আমেরিকান নভোচারীদের মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের সাথে সফল স্বয়ংক্রিয় ডকিং করে। এর বিশেষত্ত্ব হল এটিস্বয়ংক্রিয় ডকিং করতে সক্ষম কোনো রকম মানুষের সাহায্য ছাড়া। এটি কয়েক দিন পর আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে। যদিও এটি একটি ডেমু ফ্লাইট ছিল ভেতরে কেউ ছিল না. 🤣🤣🤣

২ .জাপানি ও রাশিয়ান বিজ্ঞানীদের একটি দল জানিয়েছে যে ইদুরের কোষে woolly mammoth এর কোষ প্রতিস্থাপন করার সময় উল্লি ম্যামথের কোষের নিউক্লিয়াই জৈবিক ক্রিয়াকলাপ দেখায়। যারা ICE AGE মুভি দেখেছেন তারা চিনবেন এই ম্যামাথ কে সহজেই ।

এপ্রিল

১. বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহে মিথেনের উপস্থিতি নিশ্চিত করে রিপোর্ট করেন এবং নির্ধারণ করেছেন যে মিথেনের উত্স সম্ভবত গ্যাল ক্র্যাটারের প্রায় 300 মাইল পূর্বে একটি বরফের শীট নিচ।

২. ইভেন্ট হরিজন টেলিস্কোপ প্রকল্পের বিজ্ঞানীরা ব্ল্যাকহোলের প্রথম চিত্র তৈরি করার ঘোষণা করেছেন, যা এম 8787 গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলে ৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ।

যা মানব ইতাহাসে বড় মাইলফলক এবং যার ফলে বিজ্ঞানী আইন্সটাইন এর দেয়া তথ্যের প্রমান পাওয়া যায় ।

মে

১. মার্কিন গবেষকদের গবেষণায় দেখা গেছে যে এটিডিসির জিন ধংসের মাধ্যমে ইঁদুরের অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সারের বৃদ্ধি রোধ করতে পা্রা যায়।

২. ১৭ বছরের ব্রিটিশ কিশোর, ইসাবেল হোল্ডওয়ের, drug-resistant infection চিকিত্সার জন্য genetically modified phage therapy ব্যাবহার করা হয় , সে পৃথিবীতে এই চিকিতসা প্রাপ্ত প্রথম রোগী ।

৩.ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একবারে এক সপ্তাহে্র জন্য 40 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ভ্যাকসিন সংরক্ষণের একটি নতুন এবং আরও কার্যকর পদ্ধতির আবিষ্কারের কথা জানিয়েছেন।

জুন

১. কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বিভিন্ন পরিবেশ-বান্ধব প্লাস্টিক এবং জ্বালানী তৈরি করতে বায়ুতে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড এবং নাইট্রোজেন ব্যবহার করে এমন "ন্যানোবিও-হাইব্রিড" জীবকে ব্যবহার করেছেন ।

২. ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি নতুন বৈদ্যুতি্ক মেমরি ডিভাইস বর্ণনা করেছেন যা কয়েকগুণ কম শক্তি ব্যবহার করে ডেটা রেকর্ডিং বা মুছে ফেলার সময় ।

৩.স্পেসএক্স , এসটিপি -২ মিশনের মাধ্যমে তৃতীয়বারের জন্য ফ্যালকন হেভি সফলভাবে চালু করেছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার চুক্তিবদ্ধ প্রথম ফ্যালকন হেভি মিশন।

জুলাই

১.ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো) তার দ্বিতীয় চন্দ্র অভিজান মিশন চন্দ্রায়ণ -২ চালু করে, যার মধ্যে একটি অরবিটার , Vikram (ল্যান্ডার )এবং Pragyan (রোভার) ছিল। যেগুলো ভারতীয় বিজ্ঞানীরা বানান নিজেদের দেশে ।

আগস্ট

১.বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে ২০১৬ সালের ইজরাইলের লুনার ল্যানার ল্যান্ডার এ ব্যার্থ ল্যান্ডীং এ হয়তো এতে থাকা ক্যাপ্সুল রক্ষা পায় । যার ভেতর ছিল tardigrade নামের জলজ জীব বা পোকা ,যা জল ভাল্লুক বা শ্যাওলা পিগলেট হিসাবে পরিচিত।

২. বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীরা বিদ্যুত ব্যবহার ছাড়া 11 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (20 ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বাড়ির বিভিন্ন অংশ শীতল করতে সক্ষম, এমন একটি নতুন ডিভাইস বানাতে সক্ষম হয়েছেন ।

৩ অস্ট্রিয়ান এবং চীনা বিজ্ঞানীরা ত্রি-মাত্রিক কোয়ান্টাম স্টেট বা "qutrits" এর টেলিপোর্টেশন ঘটান যা দ্বি-মাত্রিক কিউবিটের চেয়ে জটিল ।

সেপ্টেম্ববর

১.গ্রীন ব্যাঙ্ক টেলিস্কোপ ব্যবহার করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একটি দ্রুত রোটেট করা মিলিসেকেন্ড পালসারকে শনাক্ত করেন, যার নাম J0740 + 6620 , এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বৃহত্তর নিউট্রন নক্ষত্র হিসাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে ।

অক্টোবর

১.ডিপ কার্বন অবজারভেটরির বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে যে পরিমাণ কার্বন রয়েছে তার পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন , পৃথিবীতে প্রায় 1.85 ∗ 1018 টন উপস্থিত রয়েছে যার বেশির অংশ রয়েছে পৃথিবীর অভ্যান্তরে ।

২.ডিউক ইউনিভার্সিটি হেলথ সিস্টেমের গবেষকরা মানবদেহে কার্টিলেজ মেরামতের জন্য একটি প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেছেন , যা জয়েন্টগুলি এবং সম্ভবত পুরো অঙ্গগুলি পুনরায় জন্মানোর শরীরকে সাহায্য করতে পারে ।

৩.গুগল ঘোষণা করেছে যে এর ৫৩-কোবিটের "Sycamore'' প্রসেসর কোয়ান্টাম আধিপত্য অর্জন করেছে, এটী ২০০ সেকেন্ডে একটি নির্দিষ্ট কাজ করেছে যা বিশ্বের সেরা সুপার কম্পিউটার কম্পিউটারগুলি 10,000 বছর পূর্ণ করতে সক্ষম হবে।

নভেম্বর

১.রেনসেলার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা 3D print এর মাধ্যমে জীবিত ত্বক তৈরীর এমন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন যার মাধ্যমে তৈরী ত্বক রক্তনালী দিয়ে পূর্ণ, যা আরও প্রাকৃতিক এবং নির্ভুল গ্রাফ্টের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডিসেম্বর

১.একটি আংশিক সূর্যগ্রহণ হয় ২৬ ডিসেম্বর ।কোন কোন জায়গাতে পূর্ণ সূর্য গ্রহন দেখা গেলেও বাংলাদেশে আংশিক ভাবে দেখা গিয়েছিল।

#Part_2

মানুষের দ্বারা ক্ষতিসাধন - ২০১৯

জানুয়ারি :

বিজ্ঞানীরা নতুন একটি পরীক্ষার মাধ্যমে জানেছেন যে অনেক বেশি পরিমাণ মিথেন গ্যাস আমাদের Atmosphere এ ছড়িয়ে পড়ছে (যা একটি গ্রিন হাউজ গ্যাস )যা আসছে বরফের নিচ থেকে গ্রিন ল্যান্ডে।

আর ২০০৩ সালের তুলনায় এই গ্রিন ল্যান্ডে বরফ গলছে চার গুন দ্রুত !।

ফেব্রুয়ারি

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের এক সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, যে কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমানো হলেও হিন্দু কুশ এবং হিমালয় পর্বতমালার ৩৬% হিমবাহ অদৃশ্য হয়ে যাবে ২১০০ সালের মধ্যে। নিঃসরণ হ্রাস ছাড়া ক্ষতিটি দুই-তৃতীয়াংশে পৌঁছতে পারে।

মার্চ

মার্চ মাসে, ইথিওপীয় এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৩০২, টেকঅফের কয়েক মিনিটের পরে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ বিধ্বস্ত হয়েছিল; বিমানে থাকা ১৫৭ জন মারা যান ।

যার ফলে গ্রাউন্ড করা হয় প্রায় ৫০০ এর ও বেশি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ । যার ফলে এক বিশাল ঝামেলায় পরে আমেরিকান বিমান তৈরী করা বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টি । গত সপ্তাহে বোয়িং এর সিইও কে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয় । যার এক সপ্তাহ আগে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ এর তৈরী বন্ধো করে প্রতিষ্ঠান টি ।

এপ্রিল

ম্যাককয়েরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন যে প্লাস্টিকের দূষণ , মানুষের দ্বারা নিঃশ্বাসিত 10% অক্সিজেনের উৎস সমুদ্রের প্রোক্লোরোকোকাস ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধি, সালোকসংশ্লেষণ এবং অক্সিজেন উত্পাদনকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।

মে

১.২০০৫ সালের পর থেকে তাদের প্রথম প্রতিবেদনে, Intergovernmental Science-Policy Platform on Biodiversity and Ecosystem Services(IBES)জানিয়েছে যে জীব বৈচিত্র্য হ্রাস ত্বরান্বিত হচ্ছে, বর্তমানে মিলিয়ন মিলিয়ন প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে; প্রাকৃতিক জীবযাত্রার এই ব্যাপক অবক্ষইয় মানুষের ক্রিয়াকলাপের ফল।

জুন

১. .মালয়েশিয়ার সর্বশেষ পুরুষ সুমাত্রার গণ্ডার মারা গেছে বলে জানা গেছে, দেশে একমাত্র মহিলা গন্ডার রয়েছে ।

জুলাই

১.The European Centre for Medium-Range Weather Forecasts এ বলেছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২ জুলাই ২০১৯ , যা আগের সর্বচ্চো তাপমাত্রা যা ২০১৬ এর জুন এ রেকর্ড করা হয় তার চেয়ে 0.1 °C বেশি।

আগস্ট

১.The National Oceanic and Atmospheric Administration(এনওএএ) জানিয়েছে যে ২০ শতকের গড়ের তুলনায় জুলাই ২০১৮ বিশ্বএর সবচেয়ে উষ্ণ মাস। এবং Danish polar research institution, "Polar Portal" গ্রিনল্যান্ডের বরফ ক্ষয় ঘটে যার ফলে একদিনে ১১ বিলিয়ন টন এবং এই পুরো জুলাই মাসে ১৯৭ গিগাটন বরফ গলে যায় ।

সেপ্টেম্বর

১.ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইস্রো) চন্দ্রায়ণ -২ এর দ্বিতীয় চন্দ্র অভিযান এর সময় সাথে যোগাযোগ হারায় Chandrayaan-2 এর সাথে , চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণের কয়েক মুহুর্ত আগে যেটী চাদের ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২ কিমি উপরে ছিল যোগাযোগ হারানোর আগে ।

২. 50 বছরের মধ্যে বৃহত্তম আইসবার্গ অ্যান্টার্কটিকার আমেরিকান আইস শেল্ফ থেকে ভেঙ্গে পড়ে যেটি ১,6366 বর্গ কিমি আয়তনের, ওজন অনুমান 315 বিলিয়ন টন।

অক্টোবর

১.Nature এড় একটি সমীক্ষায় বিজ্ঞানীরা উপসংহারে পৌঁছেছেন যে ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রের স্তর বৃদ্ধি পাবার জন্য ৩০০ মিলিয়ন লোককে হুমকির মুখে ফেলবে , এটি পূর্বের করা রিসার্চের ফলাফল এর চেয়ে তিনগুণ বেশি ভয়ানক।

নভেম্বর

১.মালয়েশিয়ার সর্বশেষ সুমাত্রার মহিলা গণ্ডারটি মারা যায় , এবছর জুনেই শেষ পুরুষ গন্ডারটি মারা যায় । সুমাত্রার কোনো গন্ডার আর পৃথিবীতে বেচে থাকলো না এর মাধ্যমে ।

ডিসেম্বর

১.চীনা কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, জিয়ানকুই নামক বিজ্ঞানী যিনি বিশ্বের প্রথম genetically edited মানব বাচ্চাগুলি তৈরি করেছেন, তাঁর জিনগত গবেষণার জন্য তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং তিন মিলিয়ন ইউয়ান (430,000 মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হয়েছে ।

এই হল মানুষের করা বছরের মহত কাজ গুলো , বেশ কিছু বাদ দেয়া হয়েছে। এইযে একটু পর বিলিয়ন ডলার এর আতশবাজি করা হবে আর পৃথিবীর অন্য প্রান্তে হয়তো আজ ও কোনো ৫ বছরের ছেলে না খেতে পেয়ে ঘুমিয়ে পড়বে না খেয়ে ।

এইতো আমরা মানুষ ।

সবাইকে নবর্ষের শুভেচ্ছা ।

#AbhiIDT

Labels:

Monday, December 30, 2019

বিশ্ববিদ্যালয় মানে প্রজেক্ট, কিছু মানুষের ভিসি প্রোভিসি, দলান্ধের কর্মসংস্থান হওয়া

আরো দুটি বিশ্ববিদ্যালয়। এর একটি খোদ আমার জেলা কিশোরগঞ্জে আর অন্যটি ভাটির দেশের রাজধানী সুনামগঞ্জে। বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চল হলো সেই অঞ্চল যেখানে প্রায় ছয় মাস পানি থাকে আর বাকি ছয় মাস শুকনো মৌসুম। বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে ভাটি অঞ্চল বলা হয়। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের ভাটি অঞ্চলগুলো অপরূপ সুন্দর অঞ্চল। 

কথা সেটা না। কথা হলো মাত্র কয়েকদিন আগে দুটো বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা আসলো। আজকে আবার আরো দুটি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫০টি। অবিশাস্য! তার উপর আছে প্রায় ১০০ টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। একেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি ১০ জন করেও ওয়ার্ল্ড ক্লাস স্কলার শিক্ষক থাকতো তাহলেও ১৫০০ জন স্কলার শিক্ষক থাকার কথা। আমিতো বাংলাদেশে ১০০ জন ওয়ার্ল্ড ক্লাস শিক্ষক দেখি না। কোথায় গবেষণা? কোথায় পোস্ট-ডক আর পিএইচডি? 

যেইগুলো আছে সেগুলোর অবস্থা কল্পনাতীত খারাপ। আছে  ১০ গ্লাস শরবত বানানোর মত চিনি আর আমরা ওই চিনি দিয়েই যত অতিথি আসে ততই পানি দিয়ে শরবত বানিয়েই যাচ্ছি। একসময় যে এটা আর শরবত থাকবে না সেই জ্ঞানটুকুও আমাদের নেই মনে হচ্ছে। এই খারাপগুলোকে ভালো করার পদক্ষেপ না নিয়ে আরো খারাপ বানানো কেমন পদক্ষেপ? মানে বলদামিরও একটা সীমা আছে।

এরা বিশ্ববিদ্যালয় মানে প্রজেক্ট, প্রজেক্ট মানে অবকাঠামো উন্নয়ন, কিছু মানুষের ভিসি প্রোভিসি হওয়া, কিছু দলান্ধের কর্মসংস্থান হওয়া। এর বাহিরে এরা বিশ্ববিদ্যালয় যে কি সেটা বোঝার ক্ষমতা নাই। আসলে এইসব বিশ্ববিদ্যালয় বানানো মানে হাজার হাজার কোটি টাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বানানো। এইগুলো না করে বরং যেইগুলো আছে সেগুলোকে সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা উচিত। কিন্তু এই উচিত কাজটি বোঝার জন্যও কিছু উচিত মানুষ লাগবে। এই উচিত মানুষেরই বড় সংকট।

- কামরুল হাসান মামুন 
অধ্যাপক 
ঢাবি 

 https://engineersdiarybd.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%9f-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%9c%e0%a7%87/

Labels:

Saturday, December 28, 2019

বাংলাদেশের গর্ব যে প্রতিষ্ঠানের নাম আমরা অনেকে শুনিনি



শীতের আকর্ষণ খেজুরের রস। অথচ এই রস হতে পারে শত শত মানুষের মৃত্যুর কারন। ফরিদপুরের ঘটনা। স্কুল পড়ুয়া একটি মেয়ে খেজুরের রস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু অসুস্থতার কারন খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানা গেল মেয়েটি নিপা (Henipah) ভাইরাসে আক্রান্ত। মেয়েটি মারা যায়। মেয়েটির বাবা মা মেয়েটির সেবা শুশ্রূষা করতে যেয়েও মারা যায়। একই পরিবার থেকে ৪ জনের মৃত্যু হয়। এমনকি যেই রিকশাওয়ালা মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছিল সেও আক্রান্ত হয় এবং মারা যায়।

খুব সম্ভবত মানিকগঞ্জের ঘটনা। একটি মেয়ে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হসপিটালে ভর্তি হয়। ডাক্তার তার পিতা মাতাকে বলে যে কোন ভাবেই যেন মেয়ের কাছে না যায়। কিন্তু তারা ডাক্তারের কথা শুনেনি। মেয়ের কাছ থেকে তারাও আক্রান্ত হয়। তারা সবাই মারা যান। এমনকি লাশ গোসল করিয়েছিল যারা তারাও আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ঠিক এরকম ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের গর্ব একটি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে। IEDCR এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুরান ঢাকায় একবার দেখা যায় হঠাৎ বেশ কয়েকটি বানর মারা যায়। এই সংবাদ IEDCR এর কাছে পৌছে। দ্রুত তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে অনুসন্ধানে নেমে পড়ে। কোন এক মুরগির খামারের মুরগি গুলোকে চেক করতে যেয়ে বার্ড ফ্লু ধরা পড়ে। সাথে সাথে পুরো এলাকা কুয়ারেন্টিন ঘোষনা করে সভ গুলি মুরগি কে ধ্বংস করা হয়। সেই সাথে ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে না পড়তে পারে সেই ব্যাবস্থা নেয়া হয়। ফলাফল হল বার্ড ফ্লু কে নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম হয়।

বার্ড ফ্লু ধ্বংশের জন্য সারা দেশেই তারা অপারেশন চালায়৷ এবং আক্রান্ত মুরগি বা পাখি গুলোকে নিয়ন্ত্রিত ভাবে মেরে ফেলে এর বিস্তার রোধ করে।

বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে যেকোন ভাইরাল আউটব্রেক হলে সেটা ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। হতে পারে শত শত মানুষের মৃত্যু। আমরা আফ্রিকায় দেখেছি ইবোলা ভাইরাস শত শত মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের এই প্রতিষ্ঠানের নিরলস পরিশ্রমে এদেশের যেকোন ভাইরাল আউটব্রেক নিয়ন্ত্রন করা গেছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা নিয়ে আমরা অনেকে বাজে ধারণা পোষন করি। কিন্তু এদেশের যেকোন অঞ্চলে কোন হাসপাতালে যদি একি ধরনের রোগের কেস বার বার আসতে থাকে এবং কোন সমাধান করা না যায় দ্রুত IEDCR কে জানাতে হয়। সংশ্লিষ্ট ডাক্তার যদি সেটা রিপোর্ট না করেন তবে তার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান ও রাখা হয়েছে। আর এরকম ক্ষেত্রে তড়িৎ গতিতে রেস্পন্স করে IEDCR।

যে কথাটি জানানোর জন্য এই লেখা, সেটা হল, হলিউডের বদৌলতে Center for disease Control বা CDC কে চেনেনা এমন মানুষ কম আছে। হেলিক্স, দ্যা লাস্ট শিপ, ওয়াকিং ডেড, দ্যা স্ট্রেইন, রেসিডেন্ট এভিল এর মত বিভিন্ন সিরিয়াল এবং মুভিতে দেখা যায় কোন ভাইরাস আউটব্রেক হলেই সেখানে সিডিসি হাজির।

সাধারণত সিডিসি সারা বিশ্বে যেকোন আউটব্রেক আগে থেকে চিহ্নিত করবার জন্য গ্লোবাল ডিজিস ডিটেকশন প্রোগ্রাম (Global Disease Detection Program) চালু করেছে। সারা বিশ্বে তাদের মোট ১০ টি গ্লোবাল ডিজিস ডিটেকশন সেন্টার রয়েছে। এই ১০ টা সেন্টারের একটা বাংলাদেশ। এছাড়া এই অঞ্চলে এই সেন্টার আছে শুধু চীন এবং ইন্ডীয়ায়।

ইন্সটিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড রিসার্স (Institute of Epidemiology,Disease Control and Research) সংক্ষেপে আইইডিসিআর (IEDCR) হল বাংলাদেশের সিডিসি। অনেকেই হয়ত এর নাম শুনেনি। হলিউডের মত মুভি বানানোতো দুরের কথা। কিন্তু নিরবে তাদের উপর অর্পীত দায়িত্ব তারা পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মত দেশে যে প্রান্তেই কোন আউটব্রেক হয় সেখানেই তারা ছুটে যায়। ঘনবসতিপূর্ন দেশ হবার কারনে আমাদের দেশে অউটব্রেকের ঝুকি অনেক বেশি। বার্ড ফ্লু, নিপাহ ভাইরাসের মত বিভিন্ন আউটব্রেক দমানোর পেছনের মূল কৃতিত্ব তাদের। কিন্তু আমরা তাদের নামই জানি না।

মুলত আইইডিসিআর এবং আইসিডিডিআরবি এই দুটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এই কাজটি হচ্ছে। সিডিসি থেকে ট্রেনিং দেওয়া, বিভিন্ন পদ্ধতির সাথে পরিচিত হবার কারনে বাংলাদেশের সিডিসি এর মত ভূমিকা রেখে চলেছে এই প্রতিষ্ঠান। তাদের তৎপরতার জন্যই ২০০৯ এ ইনফ্লুয়েঞ্জা আউটব্রেক প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছিল। ন্যাশনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা সেন্টার, বায়ো সেফটি ল্যাব ৩, নিপাহ ভাইরাস ডিটেকশন ল্যাবরটরি রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে। সম্প্রতি সুপার ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধে যথেষ্ঠ ভুমিকা ছিল আমাদের দেশের নাম না জানা এই প্রতিষ্ঠানটির।

সম্প্রতি আইইডিসিআর সিডিসি এর পদ্ধতির সহায়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত ৪০০ বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ বিশ্লেষন করে তারা ৬ টা সম্ভাব্য সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এবং এর প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

নিরবে সেবা দান করা এই প্রতিষ্ঠান এবং তাদের সহযোগিতা করা ডাক্তারদের জন্যই আমাদের দেশে স্বাস্থ খাতের বিভিন্ন সূচকে ইন্ডিয়ার থেকেও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। যেখানে নিপা ভাইরাস, বার্ড ফ্লু ইন্ডিয়ায় ভয়াবহ রকম ক্ষতি করতে সক্ষম্ হয়েছিল সেখানে বাংলাদেশ খুব দ্রুত সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়।

এই প্রতিষ্ঠান কে আপনাদের কাছে পরিচিত করার জন্য এর আগেও একটি পোস্ট করেছিলাম। কিন্তু জানিনা কেন, এধরনের প্রতিষ্ঠান গুলি নিয়ে আমরা গর্ব করাতো দূরে থাক, এর সম্মন্ধে জানতেও ইচ্ছুক নই। আগের পোস্টেও রেস্পন্স পাইনি। আসল বিষয় হল আমাদের সবার উচিত আমাদের দেশের এরকম প্রতিষ্ঠান নিয়ে জানা। গর্ব করা। প্রচার করা। ভারতীয় দের যতই গালি দেন তারা তাদের দেশের প্রতিষ্ঠান নিয়ে গর্ব করে। আর আমরা নিজেরাই নিজেদের কে গালি দিতে ব্যাস্ত থাকি।
.
Wasi Mahin

Labels:

Wednesday, December 18, 2019

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের নাসায় ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে প্রিন্সিপাল সাইন্টিস্ট এর পরামর্শ

#NASA
#BUTEX
বাংলাদেশ একটি প্রতিভার সুপ্ত ঘর..

Make Your Dream Come True
আমরা Google  Principal Engineer একজন বাংলাদেশি... জানি 
কিন্তু এটা জানি কি NASA এর Principal Scientist ও একজন বাংলাদেশি...হ্যাঁ...এটা সত্য..
Rubyet Islam
Senior Principal Data Scientist of
The National Aeronautics and Space Administration (#NASA), USA
আজ উনি Bangladesh University of Textile এর উনার সেমিনারের Key Note গুলো তুলে ধরা হলো....

 উনার বক্তব্য টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর স্টুডেন্ট এর পাশাপাশি অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া স্টুডেন্ট দের জন্যও মাইলফলক হবে..
তিনি বলেন...  
১...Only knowledge gaining is not Enough in terms of Globalization...Be Smart...
(প্রসেস কন্ট্রোল অ্যাবিলিটি... টিম ওয়ার্ক অ্যাডাপটেম্স.. ফ্লুয়েন্ট কমিউনিকেশন আর কোনো কিছু সহজে বুঝতে পারা ও বোঝাতে পারে এগুলো থাকা মানে সে প্রোফেশনালি স্মার্ট.. ) 
(Smart and Intellectuals) in Side to side  peoples are in high demand..
Then Smart people 
Then Intellectuals because its taught to ensure a classic team work with them...
২. বর্তমানে থেকে আগামী ১০ বছরে ডাটা সাইন্স নিয়ে গবেষণা হবে অনেক... পাশাপাশি তার ইমপ্লিমেন্টেশন ও World Wide অনেক বেশি...
তবে ডাটা সাইন্স নিয়ে পড়ার জন্য.. কাউকে নিজের সেক্টর পরিবর্তন করতে বলেন নি... সেটা টেক্সটাইল হোক বা অন্য কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং... তিনি এটাও বললেন গুগল ও ফেইসবুক ডাটা সাইন্স নিয়ে কাজ করলেই এখন New decades এ NASA, Amazon,Apple, Microsoft সহ জায়েন্ট.. সংস্থা ও কম্পানি গুলো ডাটা সাইন্স নিয়েও বিস্তর কাজ হবে... 
তিনি নাসার উদাহরণ দিয়ে বলেন... অন্যান্য.. NASA Employees থেকে একজন Data scientist এর Salary Range is so high Tends to millions....(Sexiest Job of 21st Century হিসেবে উল্লেখ করে) 
৩. তিনি এইজন্য কিছু পরামর্শ দেন...
বলেন.. তিনটি জিনিসের খুব প্র‍য়োজন বর্তমান বিশ্ব পাল্লা দিতে...
A.. Programming (Specially Phython, C) 
তিনি বলেন তিনি যখন বুটেক্সে ছিলেন তখন Course থাকা C and C++ এর ধারণা তাকে এগিয়ে রাখে.. তাই Textile Engineering সহ সকল Engineer Students দের Phython, C, C++ এ দক্ষ  হতে আহ্বান জানান...
তিনি বলেন টেক্সটাইলে প্রোগ্রামিং দিন দিন খুব প্রয়োজন হয়ে দাড়িঁয়েছে.... উদাহরণ হিসেবে তিনি Artifical Printing Devolopment  এর কথা বলেন...( ছবি দেখা হয়েছে...) সেখানে Mathematically Programming করে Computer নিজে থেকে একেবারে নতুন নকশা করে নিচ্ছে..  এবং তিনি বলেন... With in a recent Years....এটা Billons of Marketing value gain করবে...
তিনি বলেন... Fabric er Nanotechnological change করে সেটা Computer এর সাথে programming (Mathematically) linkup করার চেষ্টা হওয়া উচিৎ... বুটেক্সিয়ানদের..

B. Deep Departmental Knowledge.. অর্থাৎ যে যে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছো..সেটায় stick থেকে তার মাঝে Deep knowledge gain করতে হবে... That is the Intellectual part..
C. Manage ability and Communication... এটা খুব দরকার.. জায়েন্ট প্রতিষ্ঠান Team Work basis এ চলে তাই তারা এমন কাউকে কখনই নিবে না... যাদের Manage ability and Communication efficiency নেই...
So Only be an Engineer is not Sufficient... Something soft skills are more important than the hard skill...

৪. তিনি আরো কিছু বিষয় উল্লেখ করেন...বাংলাদেশে Data science এর Application create হতে সময় লাগবে..কিন্তু গ্লোবালি.... Data Science নিয়ে কাজ এখন Most precious phenomenon....  
তিনি বলেন, Data science and Data Analysis  both are not the Same Thing...  
তাই তিনি এখন থেকেই স্টুডেন্ট দের কে ডাটা সাইন্স এর উপর প্রজেক্ট করতে বলছেন..
 Multinational companies গুলো. তুমি কি করতে পারো তার থেকে তুমি কি করেছো...সেটার উপর বেশি গুরুত্ব দেয়..
৫  Most Important কিছু টার্ম সম্ভন্ধে তিনি স্টুডেন্ট দের জানান..
Like Big Data... AI /ML/DL Peta Bytes..Neural Networking,  Deep Learning নিয়ে Study করতে বললেন....
৬.তিনি বুটেক্সিয়ান দের Nono mechanics and Thermodynamics নিয়েও কাজ করতে উৎসাহিত করেন... তিনি খুব খুশি হয়েছেন জেনে যে... South Asia তে Textile নিয়ে গবেষণা তে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বুটেক্স... ( বর্তমানে ৪২ জন শিক্ষক টেক্সটাইল নিয়ে বিভিন্ন দেশে গবেষণারত হয়েছেন...) তিনি জানান Textile Related application ও নাসাতে আছে... কিন্তু সেটার জন্য Applicant কে Vast knowledge holder হতে হবে....(Like Radar Devolopment, Spacecraft devolopment with Textile meterial, space Suit etc)
৭. তিনি Finally বলেলেন.. Mathematics, Programming, Basic Engineering Deep knowledge, Management These would be the primary key of Your Dreams.

This Extremely Important Concerns Denoted through The Seminar of "Application of Data Science in Textiles, Skill Required and Career  prospect"
By RUBYET ISLAM
Senior Principal Scientists of NASA, USA
Ex Student of  23rd Batch, Bangladesh University Of Textiles 

 Note Taken By
Arjan Roy 
Textile Engineering Management Department 
45 th Batch, BUTEX..

Labels: